
পূর্ব মেদিনীপুরে আচমকা চাঞ্চল্যকর বদল ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে জেলার জেলাশাসক উনিশ রিশিন ইসমাইলকে সরিয়ে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, ভোটের আগে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উনিশ রিশিন ইসমাইলকে সরানোর সঙ্গে সঙ্গে কমিশন বুধবারই ওই জেলার নতুন জেলাশাসক হিসেবে নিয়োগ করেছেন নিরঞ্জন কুমারকে। এই পরিবর্তন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে শুধু পূর্ব মেদিনীপুরেই নয়, একই দিনে আরও পাঁচ জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) স্তরের একাধিক কর্মকর্তার রদবদল করা হয়েছে। উত্তরের দিকে, উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মরত রাজ্য সরকারের বিশেষ সচিব তেজস্বী রানাকে ভাটপাড়া বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়া আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত জেলাশাসক আদিত্য বিক্রম মোহনকে মুর্শিদাবাদের রানিনগরে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক রোহন লক্ষ্মীকান্তকে বাঁকুড়ার রানিনগরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক লক্ষ্মণ পেরুমালকে বাঁকুড়ার তালড্যাংরায় এবং বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাও পাতিলকে মালদহের বৈষ্ণবনগরে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই একাধিক বদল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং ভোটের সময় কোনো অনিয়ম এবং প্রভাবিত সিদ্ধান্তকে রোধ করার একটি সঙ্কেত। রাজনৈতিক মহল এবং ভোট পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে ‘মহানির্বাচনী সতর্কতার চিহ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
জনসাধারণের দৃষ্টি এখন সেই জেলাশাসক এবং এডিএমদের দিকে, যারা নতুন দায়িত্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই বদল স্থানীয় প্রশাসন ও ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী প্রচার ও ভোটের সময় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কমিশন এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রাখছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ভোটের আগে এমন চাঞ্চল্যকর বদল সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহল বাড়াচ্ছে।
