
আসন্ন বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ তীব্রতর হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একই দিনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলের চোখ এখন সরাসরি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে।
বিজেপি জানিয়েছে, ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কমিশনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে ভবানীপুর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছবি ও কাটআউট এখনও স্থাপিত রয়েছে। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী ভোটের প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে কোনও লাভজনক পদে থাকা যায় না। মমতা ইতিমধ্যেই ২৬ থেকে ২৮টি লাভজনক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে আপডেট খবর এসেছে, তাঁর ইস্তফা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরে নতুনভাবে পাঠানো হবে।
অপর দিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলও কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। নন্দীগ্রামে অনুষ্ঠিত পবিত্র করের সভার সময় বিজেপি কর্মীদের আচরণে তাঁকে চোর বলে আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। রাজ্যের শাসক দল এই অসম্মানজনক আচরণ নিন্দা জানিয়ে কমিশনে অভিযোগ করেছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই অভিযোগ-প্রক্রিয়া ভোটকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ায় উভয় দিকের প্রার্থী ও দলের কর্মীরা সক্রিয় প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। ফলে ভোটারদের মধ্যে উত্তাপ এবং কৌতূহলও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা সাধারণত ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত হয়। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের ভোট ফলাফলকে কেন্দ্র করে দলেরাই নিজেদের কৌশল সাজাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আগামী কয়েকদিনে রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তারা সচেতনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নেবেন এবং নিয়মিতভাবে কমিশনের ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করবেন।
এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়, রাজ্য নির্বাচনে প্রতিটি ছোটখাটো ঘটনা এবং অভিযোগই ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটাররা এখন রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সচেতন হচ্ছেন।
