
আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দু’দিনের সফরে কলকাতায় উপস্থিত বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বুধবার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘প্রবাসী’ নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসে তাদের কাজে সন্তুষ্ট না হওয়া প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে সূত্রের খবর, নিতিন নবীন স্পষ্ট করে বলেন, “আপনারা শুধু ঘুরে বেড়াবেন না। এটা অফিসিয়াল ডিউটি নয় যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করবেন এবং চলে যাবেন। কর্মীদের পাশে থাকুন। যদি কাজ করতে অপছন্দ হয়, তাহলে তা জানান, অন্যরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছে।” এ বক্তব্য প্রমাণ করছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলার দায়িত্বে থাকা নেতাদের অগ্রাধিকার ও দায়িত্ব পালনে তৃপ্ত নয়।
বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে থাকা ভিন রাজ্যের নেতাদের ওপর এভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার কারণ হলো, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের ভিতরে অস্থিরতা দেখা দেওয়া। নির্বাচনী প্রচার, জনসংযোগ এবং বুথ ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে কিছু ‘প্রবাসী’ নেতার ভূমিকা তৃপ্তিদায়ক নয় বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এই বৈঠকে নিতিন নবীন মহিলা মোর্চার কর্মীদেরও স্থানীয় অঙ্গওয়ারি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তাতে দলের কাঠামোর ভিতরে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভোটারদের কাছে দলের উপস্থিতি দৃঢ় করা লক্ষ্য।
পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা প্রকাশ ও প্রার্থী ঘোষণা পরিপ্রেক্ষিতে, কলকাতা, নদিয়া, মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ‘বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র’ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুরনো কর্মীদের তুলনায় নতুন বা দলবদলু নেতাদের প্রাধান্য প্রদানের কারণে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সতর্কবার্তা দলকে আরও সক্রিয় ও সংগঠিত করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রার্থী ও বুথ স্তরে প্রস্তুতি শক্তিশালী করা এবার প্রধান অগ্রাধিকার।
এখন ভোটের পূর্ববর্তী এই সময়ে সকল নজর কলকাতায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ও জেলার নেতাদের প্রতিক্রিয়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা দলের কাঠামোর ভিতরে দৃঢ়তা আনবে এবং নির্বাচনে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে।
