
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এক বুথের ৩৪০ ভোটারের নাম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আরও তীব্র হয় যখন জানা যায় যে, বাদ পড়া তালিকায় খোদ ওই বুথের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) মহম্মদ শফিউল আলমের নামও রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় বিক্ষোভ দেখান এবং অভিযোগ তুলেছেন যে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তাদের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে।
বড় গোবরা গ্রামের ৫ নম্বর বুথের মোট ভোটারের সংখ্যা ৯৯২। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের নাম মৃত্যু বা স্থানান্তরের কারণে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও, বাকি ৩৫৮ জনের ভোটাধিকারের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়েছিল। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ১৮টির নিষ্পত্তি হলেও ৩৪০ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থেকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর মুছে ফেলা হয়।
BLO আলম জানিয়েছেন, তিনি নিজে ভোটারদের ফর্ম পূরণে সহায়তা করেছেন এবং সব প্রয়োজনীয় নথি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী জমা দিয়েছেন। তবু, নির্বাচিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভোটার কাজিরুল মণ্ডল দাবি করেছেন, তারা ৩–৪টি বৈধ নথি জমা দিয়েও তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগও করেছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়, যখন তারা দেখতে পান যে এই ঘটনা শুধুমাত্র সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেই ঘটেনি, বরং BLO-এর নামও তালিকায় নেই। বিক্ষোভকারীরা BLO-এর বাড়ি ও স্থানীয় রাস্তায় শোরগোল তুলেছেন। BLO আলম জানিয়েছেন, তিনি সমস্যার সমাধানের জন্য বসিরহাট ব্লক-২-এর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ERO-এর সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। আলম জানিয়েছেন, তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন।
এই ঘটনা বসিরহাট ব্লক-২-এর বেগমপুর বিবিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের তালিকা থেকে বিশাল সংখ্যক মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নির্বাচনী রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্বচ্ছতার প্রতীক।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে, এবং ভোটারদের অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে এখন সক্রিয় নজরদারি ও সমাধান চাওয়া হচ্ছে।
