
ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্ব আসনের রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তেজনা। ভাঙড়ের তাজা নেতা আরাবুল ইসলাম তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছেন এবং ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আরাবুলকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। বামফ্রন্ট এবং সিপিএম-এর এই কঠোর মনোভাব ইতিমধ্যেই আইএসএফ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।
সেলিম বলেন, “আমরা দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। যে কাউকে পরাস্ত করতে আমাদের এই লড়াই, সেই ঘরানার কাউকে বগলদাবা করা সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়।” তিনি আরও জানান, সিপিএম বা বামফ্রন্ট আরাবুলের প্রার্থিপদ অনুমোদন করে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাবুলের বিতর্কিত ভাবমূর্তির কারণে বামফ্রন্টের মধ্যে বিরোধ এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে। গত বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় বিতর্কিত প্রার্থী মউনুদ্দিন বা বুদোকে নিয়ে বামেদের যে অস্বস্তি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সেলিম সতর্ক।
এদিন বামফ্রন্ট আরও সাতটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নতুন তালিকায় রয়েছেন:
জঙ্গিপুর: অলোককুমার দাস
রঘুনাথগঞ্জ: আবুল হাসনাত
নাকাশিপাড়া: শুক্লা সাহা
রানাঘাট উত্তর পশ্চিম: দেবাশিস চক্রবর্তী
রানাঘাট উত্তর পূর্ব (তফসিলি): মৃণাল বিশ্বাস7
এগরা: সুব্রত পণ্ডা
ময়ূরেশ্বর: জয়ন্ত ভল্লা
এদিকে, আরাবুলকে আইএসএফ থেকে প্রার্থী করার বিষয়টি ভোট সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে। বামফ্রন্ট ও আইএসএফ-এর মধ্যে ভবিষ্যতের জোট সম্পর্কও এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই কড়া অবস্থান ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে কিনা তা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়ে দেবে।
সেলিমের সতর্কবার্তা বামফ্রন্টের কর্মীদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আইএসএফ কর্মীদের কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই আরাবুলের প্রার্থীতা নিয়ে বামেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

