
নয়াদিল্লিতে ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে তীব্র কূটনৈতিক বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী Subrahmanyam Jaishankar। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সরাসরি কটাক্ষ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ভারত কোনওভাবেই ‘দালাল দেশ’ নয় এবং এই ধরনের ভূমিকায় বিশ্বাস করে না।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভারত বরাবরই শান্তি ও আলোচনার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। ইরান ও আমেরিকা—উভয় দেশকেই কূটনৈতিক পথে সমস্যা মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে এই সংঘাতে তৃতীয় পক্ষ হয়ে সরাসরি মধ্যস্থতা করার প্রশ্নে ভারত যে আগ্রহী নয়, তা স্পষ্ট করে দেন বিদেশমন্ত্রী।
বৈঠকে বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন ওঠে, যখন পাকিস্তান নিজেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ‘যোগাযোগের সেতু’ হিসেবে তুলে ধরছে, তখন ভারতের ভূমিকা কী? সেই প্রশ্নের জবাবেই কড়া ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করেন Subrahmanyam Jaishankar। তিনি বলেন, এই ধরনের মধ্যস্থতা কোনও কূটনৈতিক সাফল্যের উদাহরণ নয়, বরং তা দেশের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মহলে এমন খবর ছড়িয়েছে যে Pakistan নাকি ইরান ও United States-এর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছে। যদিও এই দাবি নিয়ে স্পষ্ট কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই, তবুও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও একাধিকবার Pakistan বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছে যেমন ১৯৭১ সালে চিন-আমেরিকা এবং ১৯৮১ সালে আমেরিকা-ইরান ইস্যুতে। তবে ভারতের কূটনৈতিক নীতি একেবারেই আলাদা বলেই তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে ইরান ও United States-এর মধ্যে উত্তেজনা চরমে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি। কখনও শর্ত দিচ্ছে এক পক্ষ, কখনও অন্য পক্ষ—ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট সংঘাত নয়, আলোচনাই একমাত্র পথ। তবে সেই আলোচনায় ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবেই নিজেদের ভূমিকা রাখতে চায় ভারত। বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও একবার পরিষ্কার হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
