
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল ইরান। সংঘাত চললেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ না করে ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। এর ফলে ভারতের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারী দেশের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর মিলেছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভারত, রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা দেওয়া হবে না। এই দেশগুলিকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের জন্য প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং সংঘাতে যুক্ত কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে এই পথে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলও এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট দেশগুলির জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পারাপার করতে পারবে এবং আপাতত কোনও ঝুঁকি নেই।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই রফতানি হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত, ইরাক এবং ইরানের মতো দেশগুলি এই করিডরের উপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে কোনও বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্ববাজারে।
ভারতের ক্ষেত্রেও এই প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি এলএনজি এই পথ দিয়েই আসে। তাই সম্পূর্ণ অবরোধের আশঙ্কা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারত। ইতিমধ্যেই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের তরফেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি এবং শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের আংশিক ছাড়কে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। একদিকে চাপ বজায় রাখা, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান। তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত, এবং ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
