
অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরমে ভোরবেলার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ একটি বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং চোখের পলকে তা দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। আগুনের তীব্রতায় বহু যাত্রী বাসের ভিতরেই আটকে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি নির্মল থেকে নেলোরের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির লরির সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের পরই বাসের ইঞ্জিন অংশ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাড়িতে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে যাত্রীদের অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জনের। প্রথমে মৃতের সংখ্যা ৮ বলে জানা গেলেও পরে তা বেড়ে ১২-তে পৌঁছায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। পুলিশও দ্রুত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, লরির অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, হাসপাতালগুলিতে যাতে কোনওরকম গাফিলতি না হয়, সে বিষয়েও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ভোরের এই আগুনে ঝলসে যাওয়া বাস যেন এক করুণ সতর্কবার্তা অবহেলা আর বেপরোয়া গতির মাশুল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তারই নির্মম উদাহরণ।
