
কলকাতা: জেলা সফর শেষ করে ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন এক অপ্রত্যাশিত বিপদে পড়লেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বীরভূমের পান্ডবেশ্বর থেকে সভা শেষ করে অন্ডাল থেকে বিশেষ বিমানে উঠে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। বিমানটি নির্ধারিত সময়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দমদমে অবতরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু আকাশের প্রতিকূলতা এড়াতে বিমান এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মাঝ আকাশে চক্কর কাটতে বাধ্য হয়।
মাঝে মাঝেই রানাঘাট, কৈখালি, সোনারপুর ও ডায়মন্ড হারবারের ওপর দিয়ে উড়ে বিমান। রাডার চিত্রে দেখা যায়, প্রথমে দমদমে অবতরণ করতে না পেরে বিমানটি নদিয়ার দিকে চলে যায়। এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিমান নামতে পারছিল না। অবশেষে বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে চার্টার্ড বিমানটি নিরাপদে কলকাতার মাটিতে অবতরণ করে।
দূর্গম আবহাওয়ার কারণেই বিমান অবতরণে দেরি হয়েছিল। আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে দমদম বিমানবন্দরের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা সামিয়ানা উল্টে যায়। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা এবং আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। উল্লম্বভাবে ১০-১২ কিলোমিটার উচ্চতায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চয় বিমান চলাচলে বিপত্তি সৃষ্টি করে।
মুখ্যমন্ত্রীর এ দুর্যোগপূর্ণ অভিজ্ঞতা শুধু আকাশযাত্রার জন্যই নয়, বরং জেলা সফরের পর কলকাতা ফিরতে গিয়ে নিরাপদ অবতরণের জন্য বিমানচালক ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সতর্ক ও দক্ষ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে। দমদমের রাডার চিত্র এবং বিমানের চক্করের সময়সীমা দেখিয়ে বোঝা যায়, কীভাবে প্রতিটি স্থানে বিমান পরিস্থিতি যাচাই করে অবতরণের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।
এটি আরও স্পষ্ট করে যে, আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন সাধারণ বিমান চলাচলকেও প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের নজরেও আকাশযাত্রার ঝুঁকি ও দমদম বিমানবন্দরের রাডারের কার্যকারিতা তুলে ধরেছে। মধ্য কলকাতা পৌঁছানোর আগে এক ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে চক্কর কাটার এই ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপদে অবতরণ করলেও এই এক ঘণ্টার এয়ার সাসপেন্স পুরো শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকদের কৌতূহল এবং মিডিয়ার নজর কাড়তে বাধ্য করেছে।
