
উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে নির্বাচনী আবহ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেই আবহেই বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন বিজেপির প্রার্থী—এক নির্যাতিতার মা, যাঁর ব্যক্তিগত শোকই এবার রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রধান প্রেরণা হয়ে উঠেছে। প্রার্থী হওয়ার পরই তিনি সরাসরি মানুষের কাছে আবেদন জানালেন, তাঁকে জেতাতে হবে মানুষের স্বার্থেই।
সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি যদি এই সেবা করতে পারি, আমার মেয়েও হয়তো কিছুটা খুশি হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত ক্ষতই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন তাঁর কাছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ন্যায়বিচার এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের একটি পথ।
জানা গিয়েছে, প্রয়াত তরুণী চিকিৎসক জীবদ্দশায় পানিহাটির বহু মানুষের চিকিৎসা করতেন। সেই স্মৃতিকে সামনে রেখেই তাঁর মা জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসা করতে না পারলেও মানুষের পাশে থেকে পরিষেবা দিতে চান। তাঁর কথায়, “আমার মেয়ে যেভাবে মানুষকে সাহায্য করত, আমিও সেই ভাবেই মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
প্রার্থী স্বীকার করেছেন, এই পথে হাঁটা সহজ নয়। মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও তাজা, কিন্তু সেই যন্ত্রণাকেই শক্তিতে পরিণত করে তিনি রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রার্থী হওয়া আমার কাছে অনেক বেদনার, কিন্তু এই লড়াইটা শুধু আমার নয়, সকলের।”
নারী সুরক্ষার প্রশ্নেও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁকে একা ভাবলে চলবে না এই জয় হবে পানিহাটির মানুষের জয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মেয়ের মৃত্যুর পর বিচার চেয়ে তিনি নিজেই রাজনৈতিক ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদনও করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পানিহাটির ভোটে এই আবেগঘন লড়াই কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার। তবে একথা স্পষ্ট, ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে সামনে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা ইতিমধ্যেই আলোড়ন ফেলেছে রাজনৈতিক মহলে।
