
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্রতর। সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিল Abbas Araghchi-র নেতৃত্বাধীন Iran। স্পষ্ট বার্তা “এখন আলোচনার সময় নয়, প্রতিরোধই আমাদের নীতি।” এই ঘোষণার পর নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুধবার ইরানের সরকারি মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনও ধরনের সংলাপের পরিকল্পনা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাদের কৌশল। তাঁর কথায়, “এখন আলোচনার কথা বলা মানে আত্মসমর্পণ করা।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক পথের বদলে সংঘাতের রাস্তাতেই হাঁটতে চাইছে তেহরান।
অন্যদিকে, White House থেকে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। এমনকি আমেরিকার তরফে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে, যদি ইরান শান্তি চুক্তিতে না আসে, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, Pakistan-এর মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা মূলত যুদ্ধ থামানোর উদ্দেশ্যে তৈরি। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবগুলি এখনও কেবল ভাবনার স্তরেই রয়েছে এবং এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বেড়েছে। অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারেও চাপ বাড়ছে।
আরাঘচি আরও দাবি করেন, এই সংঘাতের মধ্য দিয়েই ইরান নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং একটি “নিরাপত্তা বর্ম” তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে কেউ ইরানকে সহজে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাবে না।
একদিকে কূটনৈতিক কথাবার্তার দাবি, অন্যদিকে সরাসরি অস্বীকার, এই দ্বৈত অবস্থানেই আরও জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক মহল এখন তাকিয়ে, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে নাকি আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোবে বিশ্ব।
