
বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মাঝেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। ডলারের তুলনায় টাকার দাম নেমে গেল রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে। শুক্রবার সকালে ১ মার্কিন ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪.২৮ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন পতন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে Iran-কে ঘিরে বাড়তে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি। United States এবং Israel-এর সঙ্গে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, আর সেই সঙ্গেই বাড়ছে ডলারের চাহিদা।
ভারতের মতো দেশ, যেখানে প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল আমদানি করতে হয়, সেখানে এই পরিস্থিতি আরও চাপ তৈরি করছে। তেল কিনতে বেশি ডলার লাগছে, ফলে ডলারের চাহিদা বেড়ে গিয়ে টাকার মান কমে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীদের আচরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন এবং ডলারে বিনিয়োগ করছেন। ডলারকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে এখন। ফলে টাকার উপর চাপ আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাবও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। টাকার দাম কমলে আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। অর্থাৎ পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল, মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স—সবকিছুর দাম বাড়তে পারে।
শুধু তাই নয়, বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের খরচও বেড়ে যাবে। কারণ একই পরিমাণ ডলার কিনতে এখন আরও বেশি টাকা খরচ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে Reserve Bank of India ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে। ফলে বাড়তে পারে ঋণের EMI-র বোঝাও।
টাকার এই পতন শুধু অর্থনীতির খবর নয়, এটি সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এখন নজর, পরিস্থিতি কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় এবং সরকার বা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কী পদক্ষেপ নেয়।
