
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যখন জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, ঠিক তখনই বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোল ও ডিজেলের উপর এক্সসাইজ শুল্ক একধাক্কায় ১০ টাকা কমানো হয়েছে, যার ফলে সারা দেশে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য পতনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এতদিন পেট্রোলের উপর প্রতি লিটারে ১৩ টাকা শুল্ক নেওয়া হত, যা এখন কমিয়ে মাত্র ৩ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে আগে যেখানে প্রতি লিটারে ১০ টাকা শুল্ক ছিল, সেটি সরাসরি শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে পরিবহণ খরচ কমার পাশাপাশি বাজারদরেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বদল। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে একসময় অশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব বাজারে চাপ পড়ে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তেলের দামও নিম্নমুখী।
শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেলে ১০৬.৬৩ মার্কিন ডলার, যা আগের তুলনায় প্রায় ১.২৮ শতাংশ কম। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও কমে হয়েছে ৯৩.৫০ ডলার প্রতি ব্যারেল। আন্তর্জাতিক বাজারে এই পতনের জেরেই ভারতেও শুল্ক কমানোর সাহস দেখিয়েছে কেন্দ্র।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং সামরিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। তার এই মন্তব্যের পরেই জ্বালানির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শেয়ার বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং ইন্ডিয়ান অয়েলের মতো সংস্থার শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ শুধু সাধারণ মানুষকেই স্বস্তি দেবে না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করতে পারে।
