
বিশ্ব রাজনীতির আকাশে ঘনাচ্ছে নতুন বিপদের কালো মেঘ। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি যতই তীব্র হচ্ছে, ততই সামনে আসছে ভয়াবহ আশঙ্কা ‘এনার্জি লকডাউন’। আর সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরাল করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin। তাঁর মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব কোভিড মহামারীর মতোই মারাত্মক হতে পারে।
মস্কোতে এক আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন স্পষ্ট জানান, “এরপর কী ঘটবে, তা কেউ জানে না।” তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাত ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে শুরু করেছে। পণ্য পরিবহন, উৎপাদন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সবকিছুতেই পড়েছে তার প্রভাব। বিশেষ করে জ্বালানি, ধাতু এবং সার শিল্পে চাপ দ্রুত বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে Iran-কে ঘিরে সংঘাত। United States এবং Israel-এর সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা গোটা বিশ্বের জ্বালানি ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তবে ‘এনার্জি লকডাউন’-এর মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে বিভিন্ন দেশ। অর্থাৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারগুলিকে বিদ্যুৎ, পরিবহণ বা শিল্পক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হতে পারে যেমনটা দেখা গিয়েছিল কোভিডের সময় লকডাউনে।
ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড়সড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, Donald Trump ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, চুক্তি না মানলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানও এখনও কোনও সমঝোতায় পৌঁছায়নি বলে জানা যাচ্ছে।
বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। যুদ্ধের আগুন যদি আরও ছড়ায়, তবে তার প্রভাব শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং তা পৌঁছে যেতে পারে প্রতিটি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে। ‘এনার্জি লকডাউন’ এখন আর শুধু জল্পনা নয়, বরং এক বাস্তব আশঙ্কা যা যে কোনও সময় দরজায় কড়া নাড়তে পারে।
