
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের লিফট-কাণ্ডে ফের উত্তাল শহর। এক মর্মান্তিক ঘটনায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, লিফটের দরজায় আটকে কার্যত পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ওই সময় তাঁর সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
ঘটনার পরই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের আদালতে তোলা হলে আইনজীবীদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে এবং তাঁরা অত্যন্ত গরিব। আইনজীবীদের বক্তব্য, “গরিব বলে আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে, বাস্তবে এই ঘটনার দায় তাঁদের নয়।” একই সঙ্গে দাবি করা হয়, লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল এবং বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী পুরো ঘটনার দায় অভিযুক্তদের উপর চাপান। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজেই স্পষ্ট ধরা পড়েছে অভিযুক্তদের গতিবিধি। ঘটনার দিন তাঁরা লিফট ফাঁকা রেখে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। এই সময় লিফটে আটকে থাকা ব্যক্তিরা দীর্ঘক্ষণ চিৎকার করলেও কেউ সাহায্যে আসেনি। অভিযোগ, ভোর ৪টা ১৫ থেকে ৪টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ওই লিফটে আটকে ছিলেন মহিলা ও শিশু, এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
সরকারি আইনজীবী আরও জানান, লিফট চালানোর জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সধারী ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, লিফটের চাবি সময়মতো পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়। তাঁর দাবি, মামলার ধারা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা পাল্টা দাবি করেন, লিফট দেখভালের দায়িত্ব ছিল পূর্ত দফতরের। তাঁদের বক্তব্য, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে আমাদের মক্কেলদের কোনও দোষ নেই।” তাঁরা আরও বলেন, নির্দিষ্ট লিফটে কার ডিউটি ছিল তা এখনও পরিষ্কার হয়নি এবং তদন্তকারীরা বিষয়টি পুরোপুরি খতিয়ে দেখেননি।
দীর্ঘ শুনানির পর আদালত অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি ৫ জন অভিযুক্তকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই ঘটনার তদন্ত চলছে, এবং এটি গাফিলতি না ইচ্ছাকৃত, তা নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।
