
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে দেশজুড়ে নতুন করে ‘লকডাউন’ আতঙ্ক ছড়ালেও, কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল এই মুহূর্তে এমন কোনও সিদ্ধান্তের প্রশ্নই ওঠে না। তবু প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠকের খবর সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা।
আগামী ২৭ মার্চ ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য তিনটি জ্বালানি সরবরাহ, সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য বলে জানা গিয়েছে।
তবে যেসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলছে, সেই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন না। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকায় তাঁদের বাইরে রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
এদিকে, ‘জ্বালানি লকডাউন’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, অতিমারির মতো পরিস্থিতি আবার ফিরতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সূত্র স্পষ্ট জানিয়েছে দেশে জ্বালানির সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। রান্নার গ্যাস হোক বা অন্যান্য জ্বালানি, কোথাও কোনও নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি।
তাহলে এই আতঙ্কের সূত্রপাত কোথা থেকে? জানা যাচ্ছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে ঘিরেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, অতিমারির সময় যেমন একসঙ্গে লড়াই করা হয়েছিল, তেমনই সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কটও সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সেই বক্তব্যকেই বিকৃত করে ‘লকডাউন’ জল্পনা ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই জ্বালানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোথাও রেশনিং, কোথাও বা গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ—এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলেই দাবি কেন্দ্রের।
জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে সতর্কতা থাকলেও, ‘লকডাউন’ আতঙ্ককে ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিচ্ছে সরকার। তবু আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব যে ভারতের ওপর পড়তে পারে, তা নিয়ে সতর্ক থাকতেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
