
হাজার বছরের রহস্যে ঘেরা Puri Jagannath Temple-কে ঘিরে আবারও চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এল। এতদিন মন্দিরের চূড়ার পতাকা বাতাসের বিপরীতে ওড়া বা মন্দিরের উপর দিয়ে পাখি না উড়ার মতো নানা রহস্য নিয়ে চর্চা ছিল। কিন্তু এবার যা সামনে এসেছে, তা আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ইতিহাস আর বিশ্বাস, দুটো ক্ষেত্রেই।
ওড়িশার Puri শহরের মাটির নিচে মিলেছে এক প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ! শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন এক গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান, যা সরাসরি সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। এই আবিষ্কার ঘিরে প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
এই রহস্যের সূত্রপাত ‘শ্রীমন্দির পরিক্রমা প্রকল্প’-এর খনন কাজ চলাকালীন। সেই সময় প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ একটি প্রাচীন সিংহমূর্তি উদ্ধার হয়, যা প্রথমেই কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। এরপর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমীক্ষার নির্দেশ দেয় ওড়িশা সরকার।
Indian Institute of Technology Gandhinagar-এর বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (GPR) সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সমীক্ষাতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মন্দিরের নিচে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চাপা পড়ে রয়েছে প্রাচীন বসতি, স্থাপত্য এবং সুড়ঙ্গপথ।
প্রায় ২১.৬ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই ধ্বংসাবশেষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানা গিয়েছে। গবেষকদের একাংশের মতে, এই স্থাপত্য জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের আগের সময়কার হতে পারে, কিংবা সেই সময়েরই সমসাময়িক।
খননকার্যে আরও পাওয়া গিয়েছে ধাতব বস্তু, মাটির পাত্র এবং নিত্যব্যবহার্য নানা সামগ্রী। যা থেকে স্পষ্ট, এই এলাকায় একসময় মানুষের বসবাস ছিল। অর্থাৎ, বর্তমান মন্দিরের নিচেই লুকিয়ে থাকতে পারে এক বিস্মৃত প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন।
সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হল সেই সুড়ঙ্গপথ, যা নাকি সমুদ্রের দিকে যায়। এটি কি কোনও প্রাচীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা? নাকি বাণিজ্য বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও অজানা।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, পুরীর এই আবিষ্কার শুধু ধর্মীয় গুরুত্ব নয়, ইতিহাসের দিক থেকেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। গবেষণা এখনও চলছে, আর তার ফলাফলই হয়তো খুলে দেবে বহু শতাব্দী ধরে লুকিয়ে থাকা রহস্যের দরজা।
