
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন Donald Trump। আচমকাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে নিয়ে তাঁর প্রশংসা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। “আমরা দু’জনেই কাজ করে দেখাই” এই মন্তব্য শুধু সৌজন্য নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বড় কৌশলগত ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবার ভারতে মার্কিন দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি এবং মোদি, এই দু’জনই এমন নেতা, যারা বাস্তবে কাজ করে ফল দেখাতে পারেন। তাঁর কথায়, “Modi and I are two people that get things done।” এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের আবহে হঠাৎ কেন এমন বার্তা?
সম্প্রতি ফোনে কথা হয়েছে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে। প্রায় এক মাস ধরে অশান্ত পশ্চিম এশিয়া, বিশেষ করে Iran-কে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও Israel-এর সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটেই দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, কথোপকথনে মোদি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভারত যুদ্ধের পক্ষে নয়। বরং দ্রুত সংঘাত প্রশমিত করে শান্তির পথে এগোনোর পক্ষেই ভারতের অবস্থান। একইসঙ্গে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ Hormuz Strait খোলা রাখা নিয়েও জোর দেন তিনি। কারণ এই রুট বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা। এই অবস্থানকে অনেকেই ভারতের ‘ব্যালান্সড কূটনীতি’ হিসেবেই দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধুই ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়। বরং এটি ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। যুদ্ধের আবহে এমন বার্তা দিয়ে আমেরিকা যে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সঙ্গী হিসেবে দেখছে, তা স্পষ্ট।
এই প্রশংসা যেন কূটনৈতিক দাবার এক সূক্ষ্ম চাল, যেখানে কথার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের বড় সমীকরণ। এখন দেখার, এই সম্পর্ক ঠিক কোন পথে এগোয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ে।
