
ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তথ্য বলছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, আর এই সংখ্যা শেষমেশ ৯০ লক্ষ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Election Commission of India-এর তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যাচাই প্রক্রিয়ার পর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকায় খসড়া তালিকার তুলনায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ পড়েছিল। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দ্রুত বাড়ছে।
এই বিপুল নামছাঁটাইয়ের পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’। প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন এই কারণে ঝুলে ছিল। তার মধ্যে ৩১ লক্ষ আবেদন যাচাই করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৪ শতাংশ নাম বাতিল হয়েছে। এই একই হারে যদি বাকি আবেদনগুলিও বাতিল হয়, তাহলে আরও প্রায় ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও ভোটার হিসেবে তা আনুমানিক ২৭-২৮ শতাংশের মধ্যে। তবে নতুন তালিকা অনুযায়ী এই হার কমে ২৪-২৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও নির্বাচন কমিশন আলাদা করে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলের দাবি সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাচ্ছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল থেকেই। যেমন মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা বেশি পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতি সরাসরি রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ সংখ্যালঘু ভোট দীর্ঘদিন ধরে All India Trinamool Congress-এর শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। ফলে এই ভোট কমে গেলে শাসক দলের ক্ষতি হতে পারে, আর তুলনায় লাভবান হতে পারে বিরোধীরা।
তবে প্রভাব সব জায়গায় একরকম হবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের। যেখানে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে তেমন প্রভাব না পড়লেও মিশ্র জনসংখ্যার এলাকায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে ভোটদানের হার। অনেকের মতে, নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে এবার ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়তে পারে। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গাতেই ভোটের দিন উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের আগে এই ‘নামছাঁটাই বিতর্ক’ যে বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে, তা বলাই যায়। এখন দেখার, এর প্রকৃত প্রভাব কতটা গভীর হয় তার উত্তর মিলবে ফল প্রকাশের পরই।
