
ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘আলু রাজনীতি’। তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ আলু ব্যবসায়ী সংগঠন ভিন রাজ্যে হাজার হাজার বস্তা আলু পাঠানো শুরু করতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। একদিকে সংগঠনের দাবি এতে চাষিরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ এটি শুধুই ভোটের আগে ‘ললিপপ’।
তারকেশ্বর থেকে রেলের মালগাড়িতে করে অসম ও ত্রিপুরা-য় পাঠানো হচ্ছে আলু। জানা গিয়েছে, প্রতিটি মালগাড়িতে প্রায় ৪২ হাজার প্যাকেট আলু যাচ্ছে এবং সপ্তাহে অন্তত দু’টি ট্রেন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বাজারে কিছুটা হলেও চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের।
সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু মাঠে নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতেই এই উদ্যোগ। তাঁদের দাবি, ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ফলে বস্তা প্রতি প্রায় ২০ টাকা দাম বেড়েছে। বর্তমানে তাঁরা চাষিদের কাছ থেকে বস্তা প্রতি প্রায় ২৪০–২৬০ টাকায় আলু কিনছেন, যা বাজারদরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই দাবি করছেন বহু চাষি। তাঁদের বক্তব্য, এখনও বিপুল পরিমাণ আলু মাঠে পড়ে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ১৬০–২০০ টাকার বেশি দামে কিনতে রাজি নন। ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না। উল্লেখ্য, এক বস্তা আলু উৎপাদনে গড়ে প্রায় ৩৭৫ টাকা খরচ হয়, সঙ্গে হিমঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে আরও খরচ যোগ হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। অথচ রাজ্যের চাহিদা মাত্র ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন এবং হিমঘরে সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রায় ৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদনই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করতেই এই উদ্যোগ। তবে চাষিদের একাংশ বলছেন, বাস্তব সমস্যার সমাধান না হলে এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে কোনও লাভ দেবে না।
আলু নিয়ে এই টানাপোড়েন এখন শুধুই কৃষি নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
