
গতবছর শুরু হওয়া এসআইআর পক্রিয়া এখনও চলছে। আর তার জেরে একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ, এমনই অভিযোগ বারবার তৃণমূলের কংগ্রেসের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে। এবার ভোটের প্রচারে বেরিয়ে সেই এসআইআর ইস্যু নিয়ে সরব হলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ অস্পৃশ্যতার মধ্যে রয়েছে। মেয়রের অভিযোগ, বিজেপি বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, “আমি জানি না, এই ভোটটা বিজেপি কেন মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে? তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করলে তবু বোঝা যায় কিন্তু এরা তো মানুষের বিরুদ্ধেো লড়াই করছে। কোনও রাজনৈতিক দল এমন মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করননি, এরাই প্রথম দল। নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই, মানুষকে লাইনেে দাঁড় করানো, মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দেওয়া….। বিজেপির কথায় মানুষকে অসম্ভব চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।”
শনিবারের লিস্টের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ লিস্ট দেখে কিছু বুধতে পারছে না। অধিকাংশ মানুষ বুঝতে পারছে না, কোনটা ডিলিটেড হচ্ছে, কোনটা গ্রহণ হচ্ছে। পরশু দিন যে লিস্টটা বেরিয়েছে তার মাথা নেই মুণ্ডু নেই। আর আজকেও যেটা বেরিয়েছে আমি সকাল থেকে দেখছি। একটা পার্টে তিনটে-চারটে-পাঁচটা নাম এসেছে। সেগুলো কী? সেগুলো গ্রহণ হয়েছে নাকি ডিলিটেড কিছু বোঝা যাচ্ছে না।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রার্থনা করি, যে মানুষকে রেহায় দিন। যদি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হয় তার মানে আমি আছি কিন্তু ডিসক্রিপেন্সি আছি, মানে আমার আইডেন্টিটি। আমার আধার কার্ডটা আমার আইডেন্টিটি, যেটা আগে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল। তো যাদের কাছে আধার কার্ড আছে তাঁদের ওপর এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যেন অত্যাচার না হয়।”
মেয়র সুপ্রিম কোর্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, “….এটা মানতে হবে যে সুপ্রিম কোর্টকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ শুনলাম, ওনারা আগের দিন বলেছেন, কোনও রাজ্যে গন্ডোগোল হয়নি পশ্চিমবঙ্গে কেন হচ্ছে? তার কারণ কোনও রাজ্যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে রাজ্যের মানুষদের ওপর অত্যাচার হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “মৃত ভোটারদের সরিয়ে দিয়েছে তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বাবার নাম চট্টোপাধ্যায়, আর আমার নাম চ্যাটার্জী বা আমার নাম মহম্মদ আর আমার বাবার নাম শেখ তার জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তা হয় না। আমার আধার কার্ড আমার আইডেন্টিডি আর সেই প্রমাণটা থাকলেই আমি ভারতের নাগরিক। এটা অন্যায় হচ্ছে পাপ হচ্ছে। সারা বাংলার মানুষের ওপর একটা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিজেপি।”
