
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বহুদিনের দাবি মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া DA-এর প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু সবাই এই সুবিধা পাচ্ছেন না এই বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্কের কারণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আপাতত শুধুমাত্র বর্তমান সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাই এই বকেয়া DA পাবেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, রাজ্যের সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত এবং পুরসভার কর্মীদের নাম এই তালিকায় নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চিতদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। যদিও ভবিষ্যতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
আরও জানা গেছে, ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত যাঁরা ডেপুটেশনে ছিলেন, তাঁদের বকেয়া DA আপাতত হিসেবের বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, HRMS সিস্টেমে ওই সময়ের পে-ডেটা সরাসরি পাওয়া যায় না। একইভাবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির বেতন যদি সিস্টেমের বাইরে থাকে, তাহলেও সেই সময়ের বকেয়া আপাতত মিলবে না।
তবে আশার খবরও রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে বিস্তারিত হিসেব করে পরবর্তী ধাপে বাকি বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। ফলে যাঁরা এখন বাদ পড়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত বা বদলি হওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য। তাঁদের শেষ কর্মস্থলের DDO-র মাধ্যমে বকেয়া DA প্রসেস করা হবে। অবসরের পরের ডিআর (Dearness Relief) পেনশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও শেষ অফিসের মাধ্যমেই আপডেট করতে হবে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন পদোন্নতির ক্ষেত্রে (গ্রুপ ডি থেকে গ্রুপ সি), যদি GPF অ্যাকাউন্ট AG Bengal দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে বকেয়া টাকা সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অন্যথায় তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে।
এদিকে, যেসব কর্মী সাসপেনশনে ছিলেন, তাঁদের বকেয়া হিসেব হবে সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স বা হ্রাসপ্রাপ্ত বেসিক পে-এর ভিত্তিতে। কোনো অসঙ্গতি থাকলে টেকনিক্যাল টিমের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
DA নিয়ে এই নতুন নির্দেশিকা যেমন কিছু কর্মীর মুখে হাসি এনেছে, তেমনই বহু কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। এখন সকলের নজর পরবর্তী ধাপে কবে এবং কীভাবে বকেয়া DA মেটানো হয়।
