
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। Russia সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে India-র অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের পকেটে। জানা গিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে রাশিয়া গ্যাসোলিন রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা চলবে অন্তত ৩১ জুলাই পর্যন্ত।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী Alexander Novak দেশের শক্তি মন্ত্রককে এই নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থির পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা।
বর্তমানে Russia-Ukraine War-এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসোলিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রফতানি বন্ধ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর দিকেই জোর দিচ্ছে রাশিয়া।
এর প্রভাব ভারতের উপর পড়তে পারে উল্লেখযোগ্যভাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। যদিও মার্কিন আপত্তির কারণে মাঝে কিছুটা কমানো হয়েছিল, পরে আবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশেষ করে Strait of Hormuz-এ সমস্যা তৈরি হওয়ায় ভারত পুনরায় রাশিয়ার উপর নির্ভরতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যার ফলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামে। তেলের আমদানি খরচ বাড়লে তার চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের উপরও।
তবে আশার কথা, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন অবিলম্বে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি নাও হতে পারে। কারণ ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে রেখেছে এবং বিকল্প হিসেবে ইরাক ও সৌদি আরবের মতো দেশ থেকেও তেল আমদানির পথ খোলা রয়েছে।
১ এপ্রিলের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার দিকেই এখন নজর গোটা দেশের। জ্বালানির বাজারে এই নতুন অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
