
হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যুদ্ধ, কিন্তু তার প্রভাব এসে পড়েছে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে। Iran-কে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের জেরে বড় ধাক্কার মুখে ভারতীয় চা রফতানি শিল্প। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলিতে রফতানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চা শিল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। Strait of Hormuz-এ কার্যত কড়া নজরদারি ও চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়েছে এবং অনেক চালান মাঝপথেই আটকে পড়েছে।
ভারতীয় চায়ের অন্যতম বড় বাজার ইরান। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে অর্থোডক্স চায়ের বড় ক্রেতা এই দেশ। যদিও আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি বাণিজ্যে কিছুটা সমস্যা ছিল, তবুও দুবাইয়ের মাধ্যমে চা রফতানি চলত। কিন্তু বর্তমান সংঘাতের জেরে সেই রুটও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শুধু ইরান নয়, United Arab Emirates, সৌদি আরব, ইরাক ও তুরস্কের মতো দেশগুলিও ভারতীয় চায়ের বড় ক্রেতা। এই অঞ্চলেই ভারতের মোট চা রফতানির প্রায় অর্ধেক যায়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে রফতানিতে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারত প্রায় ১৮.৮ কোটি কেজি চা রফতানি করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ৭.৫৫ কোটি কেজি গিয়েছে এই উপসাগরীয় দেশগুলিতে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতি শিল্পের কাছে উদ্বেগজনক।
রফতানিকারীদের দাবি, ইতিমধ্যেই কিছু চালান জাহাজে আটকে রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থপ্রাপ্তিও বিলম্বিত হচ্ছে। নতুন মরসুম শুরু হলেও বাজারে চা পৌঁছতে মে-জুন সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে শিল্প।
Tea Board of India জানিয়েছে, বিষয়টি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের নজরে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে বিকল্প বাজার খোঁজার পরিকল্পনাও করা হতে পারে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, রফতানি কমলে তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। চায়ের জোগান বাড়লে দামের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও শিল্পমহলের একাংশ বলছে, বাজার এত সহজে ভেঙে পড়বে না।
আন্তর্জাতিক সংঘাতের এই প্রভাব যে ভারতের চা শিল্পে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ডেকে এনেছে, তা স্পষ্ট। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা।
