
নেপালের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব নাটকীয়তা! নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহ-র শপথ নেওয়ার একদিনের মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। মাউন্ট এভারেস্টের দেশ নেপাল-এ এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার ভোররাতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় ওলিকে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘জেনারেশন জেড’ বা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের সময় সহিংস দমননীতির সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ ছিল। সেই ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে, যার ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক নরহত্যা’র মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তের পর অবশেষে এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গ্রেফতার শুধু একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং নেপালের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতিফলন। কারণ, গত বছর ব্যাপক জনরোষের মুখে ওলি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে থাকে, যা এবার আইনি রূপ পেল।
শুধু ওলি নন, একইসঙ্গে নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও এক চমক। নেপালি কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও দুর্নীতির অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। ফলে একসঙ্গে দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বালেন্দ্র শাহ প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর শপথের পরপরই এমন পদক্ষেপকে অনেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বালেন্দ্র শাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ভারত-নেপাল সম্পর্ক আরও মজবুত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরপরই এই গ্রেফতার ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
