
২০২৬ সালের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সোনার দাম প্রায় ২০% কমে যাওয়ায় বাজারে সতর্কতার হাওয়া বইছে। বছরের শুরুতে ৫,৬০২ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানো সোনার দাম বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৪,৪৯৫ ডলারে, যা একটি স্পষ্ট বিয়ার মার্কেটের (bear market) সংকেত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের মূল কারণ হলো শক্তিশালী ডলার, উচ্চ সুদের হার এবং বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক চাপ।
সোনার দাম ক্রমবর্ধমান উত্থান শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের অক্টোবরে। সেই সময়ের প্রায় ১,৫০০ ডলার থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে এটি ২৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে দীর্ঘ উত্থানের পর বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন শুরু হয়েছে। ইতিহাস বলছে, সোনার দাম একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেলে পরে তীব্র পতন অপ্রত্যাশিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭৪-৭৬ সালে সোনার দাম ৩৫৩% বেড়ে পরে ৪৩% কমেছিল। ১৯৮০-এর দশকে দাম ৫৪১% বেড়ে পরবর্তীতে ৫২% হ্রাস পেয়েছিল। ২০১১-২০১৫ সালে দীর্ঘস্থায়ী উত্থানের পর ৪২% পতন হয়েছিল।
বর্তমানে সোনার দাম কোথায় যেতে পারে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইতিহাস পুনরায় ঘটতে থাকে, তবে সোনার দাম তার সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৫০% কমে ২৮০০-৩০০০ ডলারের মধ্যে নেমে যেতে পারে। তবে, অনেক বিশেষজ্ঞ ৩৬০০ ডলারের স্তরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
সোনার উপর বর্তমান চাপের পেছনে প্রধান কারণ হলো ইরান-যুদ্ধের পর তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি। যেহেতু সোনা কোনো সুদ দেয় না, উচ্চ সুদের হার এবং শক্তিশালী ডলারের সময়ে এর চাহিদা কমে যায়।
তবুও দীর্ঘমেয়াদে আশাবাদ রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রয় সোনাকে পুনরায় শক্তিশালী করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদে সোনায় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সোনার অংশকে পোর্টফোলিওর ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিনিয়োগ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
সোনার বাজারে এই পতন শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, বিনিয়োগকারীদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। ইতিহাস বলছে, উত্থান যত বেশি, পতনও তত তীব্র হতে পারে। তাই বর্তমানে ধৈর্য ধরে বাজার পর্যবেক্ষণ করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
