
পুরুলিয়ার মানবাজারে রবিবার এক জনসভায় তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে আক্রমণাত্মক মেজাজে বিজেপিকে লক্ষ্য করলেন। তিনি বলেন, “আমি নাকি ব্যান্ডেজ পরে ঘুরে বেড়াই! আগে গিয়ে আমার ডাক্তারের রিপোর্ট দেখে এসো। গতবার ভোটের সময় তোমরাই ইচ্ছা করে আমার পায়ে চোট দিয়েছিলে। আবার কি মারার পরিকল্পনা করছো নাকি?” সভায় এই সরাসরি প্রশ্নে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি মানুষের অধিকার কেড়েছে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ দিয়েছে, অথচ আসলেই চার্জশিট আনা উচিত অমিত শাহের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আমেরিকা থেকে গুজরাতিদের কোমরে দড়ি পরিয়ে আনা হয়েছিল, তখন কোথায় ছিলেন? নেই কাজ তো খই ভাজ!” এভাবে তিনি অমিত শাহকে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ বলে আক্রমণ করেন।
সভায় মমতা যুবসাথী প্রকল্পের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যারা এখনও টাকা পাননি, তাদের অভিযোগগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করে আবার ঠিক করা হবে। যুবসাথী প্রকল্প কোনও ভিক্ষা নয়, বরং যুবকদের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর একটি উদ্যোগ। তিনি আশ্বাস দেন, প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকরা নিজেরা নিজের খরচ সামলাতে পারবে এবং চাকরির সুযোগও পাবে।
এছাড়াও মমতা মানবাজারে বলেন, সকলের কাঁচা বাড়ি ধাপে ধাপে পাকা বাড়িতে রূপান্তরিত করা হবে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মহিলারা আজীবন ভাতা পাবেন। তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন, তাদের সরকারের দেওয়া অর্থ মানুষের অধিকার, যা কখনো ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী সভায় রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। বাঁকুড়ার রাস্তা-সেতু নির্মাণ, পানীয় জলের সংযোগ, বালুচরি শাড়ির জিআই ট্যাগ প্রাপ্তি, বিশ্ববাংলা স্টোরের মাধ্যমে দেশের বাইরে শিল্পের প্রচার সবই সরকারের উদ্ভাবনী পরিকল্পনার অংশ।
এই জনসভা রাজ্যে ভোট প্রচারের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সভা ও প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল নিজের শক্তি প্রদর্শন করছে এবং ভোটারদের আস্থা পুনরায় জোরদার করার চেষ্টা করছে।
