
রবিবার নওদায় নির্বাচনী সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন বিতর্কের ঝড় তুললেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, অধীর চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির “সেটিং” রয়েছে। সভায় অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা দেয়, আর অধীর ও হুমায়ুনকে নিরাপত্তা দেয় সিআরপিএফ এটা কীভাবে সম্ভব?
অভিষেক আরও বলেন, “রাজ্য প্রশাসন যদি মানুষের পাশে দাঁড়াত, সিআরপিএফের দরকার হতো না। অধীর চৌধুরীর বাড়ি এখনও রয়েছে, অথচ অন্যান্য প্রাক্তন সাংসদদের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। এটা স্পষ্ট প্রমাণ যে কেউ এখনও জেলায় সেটিং করছে।” তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম না করলেও ইঙ্গিত দেন, লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি-তৃণমূল সেটিংয়ে জেলায় দাঙ্গা বাধিয়েছিল। এবারও সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে, অভিযোগ তৃণমূল নেতা অভিষেকের।
নওদা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা। অভিষেকের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট যে, তাঁর বক্তব্য সশ্রদ্ধে সংখ্যালঘু ভোটকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম দফার নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে তাঁদের ঘাড় আর হাত ভেঙে দেব। পরের দফায় ডায়মন্ড হারবারে কোমর ও পা ভেঙে বল হরি হরি বোল করে দেব।” অভিষেকের এই কণ্ঠস্বর সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিজেপিকে, যে বাংলায় বিজেপি দল ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছে, কিন্তু তৃণমূল একমাত্র দল যেখানে লোকজন যোগ দিচ্ছে।
সভায় তিনি আরও জানান, নওদা প্রার্থীদের নিয়ে দলের মধ্যে কিছু কোন্দল রয়েছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। অভিষেক নিজেই দলের পছন্দ হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও সেটিং চালালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যের রাজনীতিতে এ ঘটনা নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। অভিষেকের সরাসরি আক্রমণ, অধীর ও হুমায়ুনের নাম উল্লেখ, এবং সিআরপিএফের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক চক্রান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে ভোটরদের মনোভাব ও জেলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
