
রাজ্যের প্রথম দফার ভোটের প্রস্তুতি যতই এগোচ্ছে, ততই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নবান্ন অভিযান আলোচনার ঝড় তুলেছে। ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে রবিবার পর্যন্ত ৪০ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এখনও প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য বিবেচনাধীন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সমস্ত ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে।
এসআইআরের চূড়ান্ত ও খসড়া তালিকা মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ পড়েছে। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকে প্রায় ১২ লক্ষ নাম বাদ হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনকে বিবেচনাধীন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ৭০৫ জন বিচারক কাজ করছেন, যারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে তথ্য যাচাই করছেন।
খসড়া তালিকায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জন ভোটারের নাম ছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের তথ্য শুনানির জন্য চিহ্নিত হয়। ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে কমিশন তাদের শুনানিতে ডেকে পাঠিয়েছে। ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই শেষে ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন অভিযান রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়। রাজ্যের বেশ কয়েকজন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে পদ থেকে অপসারণ করে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচনী কাজে এই কর্মকর্তাদের আপাতত আর নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা বা মতামত না নিয়ে পদ পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য সাধারণত তিনজনের একটি প্যানেল থেকে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করত।
রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক মহলে এই তালিকা, পদক্ষেপ এবং নবান্ন অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিশনের এই সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা নজর কেড়েছে।
