
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বাকি সময় এক মাসেরও কম। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটের স্বচ্ছতা এবং অশান্তি নিয়ন্ত্রণ করতে এবার নির্বাচন কমিশন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আনছে। প্রতিটি বুথে স্থাপন করা হবে AI চালিত ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, যা ভোটগ্রহণ চলাকালীন সবকিছু নজরদারি করবে। এক সঙ্গে একাধিক ভোটার ঢুকলেই বা কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘটলে কমিশনকে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করবে। প্রতিটি বুথে থাকবে ২–৩টি ক্যামেরা এবং প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে চার ধাপে নজরদারি চালানো হবে। প্রথম ধাপে রিটার্নিং অফিসার, তারপরে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, তারপর সিইও এবং দিল্লির নির্বাচন সদন থেকেও নজরদারি চলবে। সূত্রের খবর, ৬৬০টি টিভিতে এই নজরদারি এক সঙ্গে দেখা যাবে। এছাড়া, সিইও অফিস থেকে ফ্লাইং স্কোয়াডের গাড়িতেও ক্যামেরা থাকবে। ভোটকক্ষের দরজায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবেন। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানাচ্ছেন, “বুথের ভিতরে চারজনের বেশি ভোটার ঢুকলেই AI ক্যামেরা সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেবে।”
কিন্তু এই প্রযুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে সন্দেহের সুরও আছে। এবারের SIR পর্বে কোটি মানুষের কাছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিস পাঠানো হয়েছে। AI কখনও কখনও নামের বানান বা পদবিতে ভুল ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, চ্যাটার্জি এবং চট্টোপাধ্যায়ের পার্থক্য সঠিকভাবে চিনতে পারেনি। ফলে সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়েছেন এবং রাজনৈতিক চাপের বিষয় হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, মানুষকে অযথা সমস্যায় ফেলেছে এই প্রযুক্তি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার বুথে অশান্তি রোধে কোনও আপস করা হবে না। AI প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ভোটার এবং ভোটকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা হবে। কমিশনের লক্ষ্য, ভোটের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা বজায় রাখা।
প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভোটের মাঠে নতুন দিগন্ত খুলেছে। ভোটারদের জন্য এটি নিশ্চয়ই স্বস্তির, তবে রাজনৈতিক দলের দুশ্চিন্তা যে কমেনি, তা স্পষ্ট। আসন্ন নির্বাচন, AI ক্যামেরার নজরদারি, এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ঘটনা এই তিনটি বিষয় এবার ভোটের ধূমধাম আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
