
মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল Iran। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তারা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা পাকিস্তান কি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকায় এই বিশেষ সুবিধা পেল?
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী Ishaq Dar নিজেই এই ঘোষণা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দু’টি করে পাকিস্তানি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্তকে “গঠনমূলক” এবং “শান্তির বার্তাবাহক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঘোষণার সময় তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকে ট্যাগ করেন, যার মধ্যে ছিলেন J. D. Vance, Marco Rubio এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘোষণার আগে ইশাক দার এবং আরাঘচির মধ্যে ফোনে কথাবার্তাও হয়েছে। সেখানে যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ইরান ইতিমধ্যেই ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাকের মতো কয়েকটি দেশকে ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। সেই তালিকায় পাকিস্তানও ছিল, তবে এবার অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই ঘটনার পর ভারতের দিকেও নজর পড়েছে। কারণ, এখনও হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ভারতের বেশ কিছু জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে এলপিজি বহনকারী একাধিক জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের এই সুবিধা পাওয়ায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথেই হয়। তাই এই পথের উপর নিয়ন্ত্রণ বা অনুমতি দেওয়া দুইই বড় কৌশলগত পদক্ষেপ।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত শুধু জাহাজ চলাচলের অনুমতি নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে, নাকি নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করে।
