
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার পুরুলিয়ায় এক জনসভায় বিজেপিকে নিশানায় নিয়ে তীব্র আক্রমণ ছুঁড়লেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা যখন চড়চড়ে, তখন মমতা বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষ আর মাছ, মাংস বা ডিম খেতে পারবে না। ওরা একপেশে রাজনীতি করে, ধর্মের নামে মানুষ বিভাজিত করে এবং দাঙ্গা বাধিয়ে ক্ষমতায় আসে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মানুষদের খাবারের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যগুলোতে মাছ খাওয়া হয় না। যদি ওরা এখানে আসে, তাহলে আমাদের বাঙালি খাবারের রীতি চিরতরে বদলে যাবে।” মমতা এর আগে ভিন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনাকেও তুলে ধরে অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আক্রমণ বেশি হয়।
তবে মমতার এই মন্তব্যের আগে রাজ্য বিজেপির নেতারা ইতিমধ্যেই এই ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি মাছেভাতে বাঙালি। আমরা কখনও মাছ-মাংসের বিরোধী নই। রাজ্যে এসে কেউ আমাদের খাবারের রীতিকে প্রভাবিত করতে পারবে না।”
অন্যদিকে, একই দিনে বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়াল বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “কিছু জায়গায় বেড়া না থাকায় সীমান্ত পেরিয়ে অনেকেই ঢুকে পড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঠিকই বলেছেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”
২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দুটি দফায় ভোটগ্রহণ হবে প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয় লাভ করেছিল ২১৩ আসনে, যেখানে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে প্রতিটি দল প্রচারণায় জোর দিচ্ছে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানায় রেখে খাদ্যসংক্রান্ত ভয়কে ভোট ইস্যু হিসেবে তুলে ধরলেন।
রাজ্যের রাজনীতিতে এবার খাদ্য-স্বাধীনতার ইস্যু কেন্দ্রীয় হয়ে উঠতে পারে। মমতার অভিযোগ, “যদি বিজেপি আসে, আপনারা আর মাছ-মাংস-ডিম খেতে পারবেন না।” এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ উভয়ই বৃদ্ধি করেছে।
