
সিনেমার মতোই যেন বাস্তব জীবন ভাঙন, দূরত্ব, আবার ফিরে আসা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সম্পর্কও যেন ঠিক তেমনই এক গল্প, যেখানে ডিভোর্সের দোরগোড়া থেকে আবার জোড়া লাগে ভাঙা সংসার।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সাফল্যের পরই তাঁদের প্রেম পরিণতি পায় বিয়েতে। খুব অল্প বয়সেই রাহুলকে বিয়ে করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সংসারে আসে তাঁদের একমাত্র ছেলে সহজ। কিন্তু সুখের সেই গল্প বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। শোনা যায়, তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে নানা গুঞ্জনও তৈরি হয়েছিল, যা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
২০১৮ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা থাকতেন দু’জন। এই সময়টায় প্রিয়াঙ্কা একাই ছেলে সহজকে বড় করেন, একজন সিঙ্গল মাদার হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব সামলান। কিন্তু সম্পর্কের সব দরজা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি, তা বোঝা যায় কয়েক বছর পরেই।
২০২২ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যেতে শুরু করে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে। শুধু তাই নয়, ছেলে সহজকে নিয়েও একসঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেন তাঁরা। সেই কাছাকাছি আসাই শেষমেশ নতুন সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়।
অবশেষে ডিভোর্সের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দু’জনেই। কারণ একটাই তাঁদের ছেলে সহজ। তার ভবিষ্যৎ, তার মানসিক সুস্থতা সবকিছুর কথা ভেবেই ফের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এই জুটি। নিজেরাই সেই কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন।
তবে এই আবেগঘন পুনর্মিলনের গল্পের মাঝেই এসে পড়ে এক নির্মম বাস্তবতা। তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে আচমকাই ঘটে দুর্ঘটনা, আর সেখানেই প্রাণ হারান রাহুল। হঠাৎ এই মৃত্যু যেন আবারও প্রশ্ন ছুড়ে দেয় জীবন কি সত্যিই সিনেমার মতো?
একদিকে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগার লড়াই, অন্যদিকে অকাল মৃত্যু সব মিলিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার গল্প আজ শুধু এক দম্পতির নয়, বরং ভালোবাসা, ভুল, ক্ষমা আর ফিরে আসার এক গভীর মানবিক কাহিনি।
