
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এরই মধ্যে বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, ইরানের তেলের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে “পছন্দের বিকল্প” আর সেই লক্ষ্যেই দেশের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ড দখলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হবে ইরানের তেল দখল করা।” তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, খার্গ আইল্যান্ড ইরানের তেল রফতানির মূল কেন্দ্র। দেশের সিংহভাগ তেল এই দ্বীপ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। ফলে এই অঞ্চল দখলের চেষ্টা মানেই ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা, একইসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড়সড় অস্থিরতা।
ইতিমধ্যেই খবর, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় ১০ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনাদেরও মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি যে যুদ্ধের দিকে এগোতে পারে, তা স্পষ্ট।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা খার্গ দ্বীপে সরাসরি হামলা চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মার্কিন সেনাদের বড় ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে।
এই উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যদিও যুদ্ধের হুমকির মাঝেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে। তিনি ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন সম্ভাব্য চুক্তির জন্য। তবে সেই আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে যে সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, কূটনীতি নাকি যুদ্ধ কোন পথে এগোয় পরিস্থিতি।
