
মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানির দাম নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে ভারত সরকার। ইরান-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের উত্তেজনার আবহে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের উপর। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা ভেবেই একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি ১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় বাজারে দাম নির্ধারণ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। এতে করে হঠাৎ করে বড়সড় মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই জ্বালানির উপর বড়সড় শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোলের উপর আবগারি শুল্ক ১৩ টাকা কমিয়ে মাত্র ৩ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১০ টাকা শুল্ক কমিয়ে তা কার্যত শূন্যে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে এই স্বস্তির আড়ালেই রয়েছে আর্থিক চাপের আশঙ্কা। শুল্ক কমানোর ফলে প্রতি দুই সপ্তাহে প্রায় ৭০০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে কেন্দ্রীয় কোষাগার। বার্ষিক হিসেবে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির উপর বাড়বে চাপ।
এদিকে, ইরান ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তেল সরবরাহে সহযোগিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ভারতে আসতে পারলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও জ্বালানির দামে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রের এই নতুন নীতি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই জ্বালানির ‘জ্বালা’ কমাবে, নাকি সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে?
