
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কি কাটল? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সমুদ্রের নোনা জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সোমবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত জনজাতীয় হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে আটকে থাকায় অভিনেতার ফুসফুস ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ফুসফুস, শ্বাসনালি, খাদ্যনালি এবং পাকস্থলীর ভেতর প্রচুর পরিমাণে বালি ও নোনা জল পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ঘণ্টাখানেক জলের তলায় ডুবে থাকার ফলেই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের এই অবস্থা হয়েছে। চোরাবালিতে পা আটকে যাওয়ার কারণে তিনি আর উঠে আসতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।‘
ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে ওড়িশা সীমান্তবর্তী তালসারি সমুদ্র সৈকতে গিয়েছিল পুরো ইউনিট। রবিবার বিকেলে শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল ও তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সমুদ্রের হাঁটু জলে নেমেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হঠাৎ একটি বড় ঢেউ আসায় দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত শ্বেতাকে উদ্ধার করতে পারলেও রাহুল ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যথাযথ প্রোটোকল মেনে সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সোমবার ওই ধারাবাহিকের শুটিং ক্যামেরাটি বাজেয়াপ্ত করেছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শ্বেতাকে উদ্ধার করা পর্যন্ত দৃশ্য ধরা পড়লেও রাহুলের তলিয়ে যাওয়ার পরের কোনও দৃশ্য সেখানে নেই। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দেহ কলকাতায় ফিরিয়ে আনার যাবতীয় ব্যবস্থার তদারকি করেছেন।
সোমবার দুপুরে অভিনেতার দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর মামা-মামি, বন্ধু এবং ধারাবাহিকের প্রোডাকশন ম্যানেজাররা শববাহী গাড়ি করে দেহ নিয়ে কলকাতায় ফেরেন। এদিনই কলকাতায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা।
