
জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তালসারির সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও স্পষ্ট নয় ঠিক কী কারণে তিনি জলে নামলেন। আর সেই কারণেই এবার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁর সহশিল্পী থেকে শুরু করে টালিগঞ্জের কলাকুশলীরা।
ঘটনার পর ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ সামনে আসেনি। ফলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুটিং চলাকালীন কী ঘটেছিল? কেন আচমকা সমুদ্রে নামলেন রাহুল? দুর্ঘটনার পেছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং শেষে এই ঘটনা ঘটে। জল থেকে উদ্ধার করার পর প্রথমে তাঁকে দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে তাঁর দেহ কাঁথি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়, এরপর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অভিনেত্রী রূপসা গুহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন “তিনি কি নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি হাঁটতে হাঁটতে গভীর স্রোতে তলিয়ে যান?” তাঁর কথায়, “এই ঘটনার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই, আমরা সত্য জানতে চাই।”
অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী-ও এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তিনিও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র টালিগঞ্জের শিল্পীদের একত্রিত হয়ে এই বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আর্টিস্ট ফোরামের তরফে অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর বক্তব্য, শুটিং শেষ হওয়ার পরই রাহুল জলে নামেন। তাঁর অনুমান, হয়তো তিনি সাঁতার জানতেন না বা কোনওভাবে স্রোতে আটকে পড়েছিলেন। হঠাৎই টেকনিশিয়ানরা চিৎকার করে জানান, রাহুল ডুবে যাচ্ছেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
এই ঘটনায় একাধিক বয়ান সামনে আসায় ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে, যখন চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন যে গভীর জলে যাওয়ার কোনও দৃশ্যই ছিল না তখন প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
এক প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু এখন শুধুই শোকের নয়, বরং এক গভীর রহস্যের বিষয়। সত্য সামনে আনতেই এখন একটাই দাবি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।
