
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার হাইভল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের দিকে। সূত্রে খবর, আগামী ৮ই এপ্রিল নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন কালীঘাটের বাসভবন থেকে একটি মিছিল বের হতে পারে। এই মিছিলটি কালীঘাট থেকে শুরু হয়ে গোপালনগরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারেন, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। রাসবিহারী কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী দেবাশিস কুমার। চেতলা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম। এছাড়াও ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক এই মিছিলে অংশ নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই যুযুধান পক্ষ। একদিকে শাসক শিবিরের প্রার্থী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। ফলে দক্ষিণ কলকাতার এই কেন্দ্রটি যে এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল অনুযায়ী, এবার ভবানীপুরের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জনসংযোগের কাজে এই ওয়ার্ডের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।
নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রেও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল শিবিরের। ১৪ই এপ্রিল সংবিধান প্রণেতা ড. বি.আর. আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তীতে প্রথম বড় মাপের জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তার পরবর্তী দিন থেকে ভোটগ্রহণের আগে পর্যন্ত একাধিক কর্মীসভা ও মিছিলের মাধ্যমে প্রচারের তীব্রতা বাড়ানো হবে।
আপাতত স্থানীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক ও অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সেরে রাখছেন, যাতে মনোনয়নপত্র পেশের দিন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামা যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
