
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে আবারও সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার কলকাতার ছয় জায়গায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন আবাসন ও অফিসে হানা দিয়েছেন আধিকারিকেরা। তল্লাশির তালিকায় রয়েছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু।
ইডি সূত্রে খবর, বুধবার সকাল ৭টা নাগাদ কসবার ফার্ন রোডে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে পৌঁছান তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের একাধিক এফআইআর আগে থেকেই নথিভুক্ত ছিল। গত কয়েকদিন ধরে সেই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার পর এদিন সরাসরি অভিযানে নামে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দক্ষিণ কলকাতার কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকায় বিশাল এক সিন্ডিকেট চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন এই সোনা পাপ্পু। ইডি সূত্রে দাবি, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দাবি, সংগৃহীত অর্থ ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে তিনি কাজ করতেন। রবীন্দ্র সরোবর ও গোলপার্ক এলাকায় সাম্প্রতিক গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
এদিন কেবল সোনা পাপ্পুর বাড়িই নয়, বালিগঞ্জ এলাকার ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। আর্থিক তছরুপের একটি মামলার যোগসূত্রে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি কোনও আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এই অভিযানের সময়কাল নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। সোনা পাপ্পু দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সভাপতি তথা রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত সোমবারই দেবাশিস কুমারকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। তার ঠিক দু’দিন পরেই এই ব্যবসায়ী তথা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও অতীতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সোনা পাপ্পু। তবে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় শান্তিভঙ্গের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তাঁর দলবলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। আজকের এই তল্লাশিতে কোনও নথিপত্র বা অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
