
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার মালদহে তিনটি জনসভা করেন। তিনি কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়কেই সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অসংখ্য ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা তার হাতে নেই, এখন তা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মমতা বলেন, “আমি শান্তির পক্ষে। হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই করতে হবে। বিজেপি ধর্মের বিভাজন ছড়াচ্ছে, কিন্তু আমি সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলব। যাদের নাম ভোটার তালিকায় বাদ গেছে, তাদের জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করুন। সুপ্রিম কোর্টও দেখবে।” তিনি কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, “মালদহে কংগ্রেসের অত্যাচার এবং চক্রান্তের কারণে এই পরিস্থিতি হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা নয় কাউকে বাদ দেওয়া।”
জনসভায় তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়। অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না। লোভে পড়বেন না।” তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল সরকারের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চালু হয়েছে, যেমন নলবাহিত জল, কৃষি সহায়তা, শিক্ষার সুযোগ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা। “আমাদের ১০৫টি প্রকল্প চলছে। ভোটের পর দাম বাড়াতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন,” তিনি বলেন।
তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও টার্গেট করে বলেন, সীমান্তে মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে যাতে বিজেপিকে ভোট দেওয়া হয়। তবে তিনি ভোটারদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। মমতা আরও বলেন, “যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই ও এনআইএ ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু শান্তি বজায় রেখে লড়াই করতে হবে।”
মালদহের ঘটনা নিয়ে তিনি জানান, প্রশাসন তাকে আগে কিছু জানাননি। তবে তিনি আদালতের নির্দেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “বাংলার সম্মান রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিকভাবে লড়ব। বাংলা থেকে আগে বিজেপি সরাতে হবে, তারপর দিল্লি।” তিনি সকলকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভেদাভেদ করবেন না, শান্তিতে থাকুন।”
মমতার এই জনসভা মালদহে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ দেখা গেছে।
