
রাজ্য সরকারি কর্মীদের পর এবার অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ (ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স) ও ডিআর (ডিয়ারনেস রিলিফ) মেটাতে উদ্যোগী হল নবান্ন। অর্থ দফতরের নেতৃত্বে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ ও ডিআর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে। কর্মীসংখ্যা এবং আর্থিক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য জমা পড়লেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অর্থ দফতর।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা, স্কুল শিক্ষা, জনশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা, পুর ও নগরোন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা, পরিবহন এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁদের সমন্বয়েই এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই রাজ্য সরকার ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ শুরু করে। একাধিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই অর্থ প্রদানও শুরু হয়। তবে সে সময় পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা এই সুবিধা পাননি। এবার তাঁদের জন্যই নতুন করে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চলছিল, ফলে এই ঘোষণা কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি আনতে পারে।
রাজ্যের আর্থিক চাপে সত্ত্বেও বকেয়া মেটানোর এই উদ্যোগ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
