
ইন্দোনেশিয়ায় ভোররাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় সকালে হওয়া এই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে একাধিক এলাকা। জানা গেছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৪, যা যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কম্পনের জেরে বহু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মলুকা সাগর এলাকায়, যা মাজু দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থিত। কেন্দ্রের গভীরতা খুব বেশি না হওয়ায় কম্পনের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। হঠাৎ করেই প্রবল কাঁপুনিতে ঘুম ভেঙে যায় মানুষের। অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এই ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রস্থলের আশেপাশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সম্ভাব্য বিপজ্জনক ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু ইন্দোনেশিয়াই নয়, আশেপাশের দেশগুলিও এর প্রভাবে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে উত্তর সুলাওয়েসি অঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। একটি ক্রীড়া ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন কম্পন অনুভূত হওয়ায় পড়ুয়ারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও কম্পন যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল এবং অনেকেই তা দীর্ঘ সময় ধরে অনুভব করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়া এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আগ্নেয়গিরি ও টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে এই এলাকা সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।
গত কয়েক বছরেও একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এই দেশে। ফলে এবারের কম্পন ঘিরেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য সুনামির পরিস্থিতির দিকে।
