
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে বৃহস্পতিবার দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারসভায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় তিনি মালদহে ভোটার তালিকা নিয়ে সংঘটিত অশান্তি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেন এবং বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একই সঙ্গে নিশানা করেন। মমতা বলেন, “মালদহের ঘটনা বিজেপির পরিকল্পনাপ্রসূত। ওরা চায় নির্বাচন বাতিল হয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক।” তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও এই চক্রান্তের দায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। নাম না করে মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীরকেও ‘হায়দরাবাদ থেকে এসে বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনিক বিষয়ে তার আর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। মালদহের ঘটনায় প্রশাসনের তরফে তাকে কোনও তথ্য জানানো হয়নি এবং নতুন মুখ্যসচিব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কমিশনের সিদ্ধান্ত ও আধিকারিকদের বদল প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, “দেখেছেন তো, যাঁদের নিযুক্ত করছেন, তাঁরা কেমন কাজ করছেন?”
মমতা একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে না নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “আপনাদের ন্যায্য ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু লড়াইয়ের রাস্তাটা বন্ধ করবেন না। রাজ্যের বদনাম হয়েছে। আমি তো আপনাদের হয়ে লড়ছি।” তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষের জন্য ট্রাইবুনালে লড়াই করার আশ্বাস দেন এবং বলেন, “নিরাপত্তার জন্য সরাসরি বিচারকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।”
মালদহের ঘটনা অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে দেশের ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং বিভিন্ন ব্লক অফিসে বিক্ষোভ হয়েছিল। এতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করা হয়। পুলিশ তাদের উদ্ধার করার সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী সভায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন এবং বলেন, “সঠিক বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। যারা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই-এনআইএ করেছে।”
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তিনি রাজনৈতিক চক্রান্ত ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোট প্রভাবিত করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র সতর্ক। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের সংযম ও শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দেন, যাতে রাজ্যের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা এবং ভোটপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
