
ভবানীপুর আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে রোড শো করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া রোড শোটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূল এবং বিজেপির কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরোতে গিয়ে তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক বিজেপি কর্মী আহত হন, চোখে আঘাত লেগেছে। রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ তাঁকে নিরাপদে সরায়। রোড শোর সময় তৃণমূল কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ দেখান।
অমিত শাহ বলেন, “ভবানীপুরে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আমাদের শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে ঢুকে ভোটে জয়ী হতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠন এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ করা জরুরি। শাহ ঘোষণা করেন, নির্বাচনের ১৫ দিন তিনি রাজ্যে থাকবেন এবং বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করবেন।
শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন দেওয়ার আগে ভবানীপুরের একটি গুরুদ্বার ও লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে প্রার্থনা করেন। রোড শোর সময় গাড়িতে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ, এবং পুষ্পবৃষ্টি হয়ে উৎসাহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
রোড শো চলাকালীন কালীঘাটে তৃণমূল সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরত হয়নি। সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরোতে গিয়ে অমিত শাহের গাড়ির সঙ্গে তৃণমূলের কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। রোড শোর পুরো আয়োজন নজরকাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সম্পন্ন হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুভেন্দুর মনোনয়ন ও এই রোড শো পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্র রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রার্থী।
এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, দুই দলের সরাসরি সংঘর্ষ এবং জনসাধারণের মধ্যে সমর্থন ও প্রতিরোধের দৃশ্যাবলী স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আগামী দিনের ভোট প্রক্রিয়া এবং প্রচারণা কার্যক্রমে এই পরিস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
