
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায় নির্বাচনের আগে দলের অন্দরেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের তরফ থেকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু সেটি তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুভ্রাংশুর বক্তব্য, “আমি মুকুল রায় নই যে যেখান থেকে খুশি প্রার্থী হব। আমি চাই বীজপুর বা আশেপাশের কোনও কেন্দ্র থেকে আমাকে প্রার্থী করা হোক।” যদিও শেষপর্যন্ত তাঁর এই দাবি মানা হয়নি।
শুভ্রাংশু রায় আরও জানান, তাঁর প্রার্থীতা নিয়ে জল্পনা চললেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বীজপুর কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক সুবোধ অধিকারীকে পুনঃপ্রার্থী করেছে। এর পরও তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলেছেন এবং নির্ধারিত প্রার্থীর হয়ে প্রচারেও অংশ নিয়েছেন।
একই সঙ্গে শুভ্রাংশু কাঁচরাপাড়া পৌরসভায় উপ-পুরপ্রধান হিসেবে নিজের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, “আমার যে দফতরগুলি রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ কাজই এখন অনলাইনে হয়। ফলে উপ-পুরপ্রধান হিসেবে আলাদা করে কোনও ভূমিকা থাকে না।” এই কারণেই তিনি নিয়মিত বোর্ড মিটিংয়েও উপস্থিত থাকেন না বলে জানিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে দলের অন্দরেই এমন অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুভ্রাংশুর মন্তব্য দলের ভিতরে কিছু অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন নির্বাচনের সময়সূচি সামনে।
শুভ্রাংশু রায়ের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে মূলত দুই দিকেই প্রভাব ফেলতে পারে, একটি হলো ভোটারদের মনোভাব, অন্যটি হলো দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়। যদিও তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলেছেন, তবুও প্রার্থী না হওয়ার কারণে প্রকাশিত অসন্তোষ ভোটযুদ্ধকে কিছুটা উত্তপ্ত করার সম্ভাবনা রাখে।
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সংক্রান্ত এই ঘটনা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের জন্য নতুন ধাক্কা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশ্যে অসন্তোষ দলের ইমেজ ও নির্বাচনী প্রচার উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলতে পারে।
শুভ্রাংশু রায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রার্থীতা এবং উপ-পুরপ্রধান হিসেবে কার্যক্রম সীমিত হলেও তিনি দলের নির্দেশ মেনে চলছেন এবং দলের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে, এই মন্তব্য কি শুধুই ব্যক্তিগত অসন্তোষের প্রকাশ, নাকি নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সঙ্কটের সূচনা।
