
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের মধ্যে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। রাশিয়ার প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরোভ সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে বৈঠক করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। বৈঠকে রাশিয়া আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ভারতের মতো বড় জ্বালানি চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোর উপর চাপ বাড়ছে। যদিও ভারত কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাঠাতে পারছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার আশ্বাস ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যও ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় অন্যান্য দেশও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, হরমুজ থেকে জাহাজ আনার জন্য ইরানকে কোনও টোল ফি দিতে হচ্ছে না। সম্প্রতি জাহাজ পিছু ২ মিলিয়ন ডলার টোল নেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, যা কার্যত খারিজ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভারতকে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। এছাড়া, এটি ভারতের বিদেশ নীতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার ফলে ভারত ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকটে অল্প ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পাশাপাশি, বৈঠকের সময় দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া তেল ও গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এর ফলে ভারত কেবল তাত্ক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করতে পারবে।
ভারত ও রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে জ্বালানি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এটি ভারতের জন্য বড় সুবিধা হয়ে উঠেছে। এমনকি এই সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, রাশিয়ার এই প্রতিশ্রুতি ভারতের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তেলের সরবরাহ নিশ্চিত থাকায় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার চাপ কিছুটা কমবে। এই পরিস্থিতি ভারতের শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাশিয়ার এই আশ্বাস ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। দেশটি এই সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে নিজেকে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।
