
মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখার এবং প্রশাসনিক অফিস অবরোধের ঘটনায় মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করেছে নির্বাচন কমিশন। পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন এবং বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবারই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মোফাক্কেরুলকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছিল না; তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে মোফাক্কেরুলকে মূল প্ররোচনাকারী হিসেবে ধরা হয়েছে। মালদহের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোফাক্কেরুল বেঙ্গালুরুতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকে শিলিগুড়ির পুলিশ গ্রেফতার করে মালদহে পৌঁছে দিয়েছে।
ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময় রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন এবং পরে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও করতেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি এমআইএম-এ যোগ দেন এবং প্রার্থীও হন। নির্বাচনে তিনি মাত্র ৮৩১ ভোট পেয়েছিলেন।
মালদহের কাণ্ডে উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে এবং তদন্তের দায়িত্ব এনআইএ বা সিবিআইকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ জানান, বিচারকদের উদ্ধার করতে দেরি হলেও কোনও গাফিলতি হয়নি। গ্রেফতারের পর মোফাক্কেরুল সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা’।
এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কয়েকজন স্থানীয় নেতা জনতাকে প্ররোচিত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে কাণ্ডের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং এনআইএ-র হাতে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়েছে।
মালদহ কাণ্ডে মোফাক্কেরুলের গ্রেফতার ঘটনাটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
