
সংসদে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের ‘সাইন ডাই’ ঘোষণা না করেই কেন্দ্র আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। বিশেষ অধিবেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধন। মাত্র আড়াই বছর আগে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই আইন কার্যকর হলেও, আসল উদ্দেশ্য অনুযায়ী মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর হয়নি। কারণ সংবিধানে বলা হয়েছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই এই সংরক্ষণ প্রযোজ্য হবে।
কেন্দ্রের লক্ষ্য আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন কার্যকর করা। এজন্য আইনে সংশোধনের পাশাপাশি সংবিধানের ৩৬৮(২) অনুচ্ছেদও পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু এতে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, বিজেপির কাছে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই বিরোধী দল এবং অন্যান্য শরিকদের সমর্থন অপরিহার্য।
এছাড়া, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছে যে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এর ফলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮১৬ হবে, যার মধ্যে ২৭২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে রাজ্যভিত্তিক আসনের অনুপাত অপরিবর্তিত থাকবে। বিশেষ অধিবেশনের এজেন্ডায় সীমারেখা কমিশন বিলও থাকতে পারে, যা লোকসভা ও বিধানসভায় আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ককে সক্রিয় করার উদ্দেশ্যও বহন করছে। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধনী পাশ হলে মহিলাদের সংরক্ষিত আসন কার্যকর হওয়া মাত্রই রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই সংসদে এ বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। বিশেষ অধিবেশনের ফলাফল সাম্প্রতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, নারী ভোটের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব এবং নির্বাচনী কৌশল এই অধিবেশনের পর নতুন মাত্রা পেতে পারে।
মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল এবং সীমারেখা কমিশন বিল উভয়ের পাশাপাশি সংসদে চলমান বাজেট অধিবেশনের সিদ্ধান্তও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দেবে। এটি শুধুমাত্র আইনি সংশোধনী নয়, বরং মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
