
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার আওয়ামী লিগের উপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে উদ্যোগী হয়েছে। জানা গিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অর্ডিন্যান্সকে আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যার ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ-এর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা কার্যত স্থায়ী রূপ পেতে চলেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১২ মে মহম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখতে হলে অর্ডিন্যান্সকে সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা জরুরি ছিল। নতুন সরকার সেই পথেই এগোচ্ছে।
সরকারি সূত্রে খবর, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে এবং অর্ডিন্যান্সটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকবে না, বরং আইন অমান্য করে সংগঠনের কার্যক্রম চালালে কঠোর শাস্তির বিধানও যুক্ত হতে চলেছে। প্রস্তাবিত আইনে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার মতো কড়া শাস্তির উল্লেখ থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনে সংশোধনী এনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এর আগেই ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা-এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগ শিবির জানিয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং সরকারকে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করবে। যদিও বাস্তবে এখনও বড় কোনও আন্দোলন চোখে পড়েনি।
দলের একাংশের মতে, নেতৃত্বের তরফে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, দলের এই সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা আইনি রূপ পেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক পরিসর এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য সবকিছুই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে।
