
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঋণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে আবার সরগরম রাজনৈতিক আড্ডা চলছে। যেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার দাবি করছে বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দুর্বল করে প্রচুর ঋণ রেখে গিয়েছে, সেখানে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু আজ সেই অভিযোগকে পুরোপুরি খণ্ডন করেছেন এবং নতুন হিসাব সামনে আনেছেন।
এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে বিমান বসু বলেন, “বাম আমলের সময় রাজ্যের ঋণ ছিল সত্যিই নির্দিষ্ট পরিমাণ, কিন্তু এখনকার সময়ে তৃণমূল আমলে ঋণের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময় শুধু ঋণ ছিল নয়, বরং ১৯৬৭ থেকে শুরু করে আমলে অনেক মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে, যার হিসাব “কিউমিলেটিভ এফেক্ট” হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
বিমান বসু বলেন, বাম আমলে রাজ্যের ঋণ ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যা স্বাধীনতার পরের সময়ে বিভিন্ন সময় তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “কিন্তু গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।” এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এখন যারা বলে রাজ্যের উন্নয়ন কীভাবে হবে, তাদের কি এর জন্য কোনো জবাব আছে?”
বিমান বসুর মতে, আজকের ঋণের মাত্রা শুধুমাত্র বামফ্রন্টের আমল বা বর্তমান শাসকদলের আমল নয়; বরং স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যের অর্থনৈতিক দায়িত্ব, উন্নয়ন ও ব্যয়ের ধারাবাহিকতার ফলেই এই ‘কিউমিলেটিভ ঋণ’ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “গণনায় যদি দেখা হয়, স্বাধীনতার পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ডঃ প্রফুল্ল ঘোষ, এরপর বিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং তারপর তৃণমূলের আমল — সব মিলিয়ে ঋণের সংখ্যা বেড়েছে।”
এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের আগুন জ্বালেছে। শাসকদল ও বিরোধী পক্ষের ব্যক্তিরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুক্তি তুলছেন এবং লক্ষ দেখিয়েছেন ঋণের প্রকৃত হিসাব ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে।
রাজ্যে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস, উভয় দলই নিজেদের বক্তব্যকে পুনরায় প্রতিপাদন করতে থাকে, যেখানে একপক্ষ বাম আমলের সময়ের ঋণের হিসাবকে ছোট করে দেখার চেষ্টা করছে, আবার অন্যপক্ষ বর্তমান সরকারের ঋণ বৃদ্ধিকে তুলে ধরছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঋণ বিতর্ক রাজনৈতিক আড্ডা থেকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকেও সরিয়ে দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যের ঋণের মাত্রা বোঝার জন্য শুধুমাত্র মোট ঋণের সংখ্যা দেখলেই হবে না; বরং রাজ্যের উন্নয়ন খাত, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য সকল প্রশ্নই বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
এদিকে ভোটের সূচনা কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ঋণ বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চকে আরও উত্তপ্ত করছে এবং সকল পক্ষই নিজেদের বক্তব্য কে শক্তিশালী করে তুলতে তথ্য ও সংখ্যা সামনে নিয়ে আসছে।
